আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের দুর্বল নিম্নমুখী মুভমেন্ট অব্যাহত ছিল। গত সপ্তাহের সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ইরানের সঙ্গে সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনার খবর দিয়ে ট্রেডারদের চমক দেওয়ার পর সেদিন এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে সপ্তাহের বাকি সময় জুড়ে ইউরোর দরপতন হয়েছে এবং মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কারণ সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট কারো সঙ্গে আলোচনা করছেন, কিন্তু ইরান এই ব্যাপারে অজ্ঞাত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তেহরান তো স্পষ্টভাবে বলেই দিয়েছে যে ট্রাম্প নিজেই নিজের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তার ঐতিহ্যবাহী নমনীয় বক্তব্যগুলো মূলত তেল, গ্যাস ও জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীল করার লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, আবারও ট্রাম্পের পদক্ষেপ সফল হয়নি। জ্বালানি মূল্য বাড়ছেই, মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্রমাগত মধ্যপ্রাচ্যে আসছে, আর কারেন্সি ট্রেডাররা নতুন করে সংঘাতের উত্তেজনার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় তাদের মূলধন নিরাপদ রাখার জন্য মার্কিন ডলারে স্থানান্তর করছেন।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়, তবে মার্কেটে পরিলক্ষিত মুভমেন্ট তেমন সন্তোষজনক ছিল না এবং অস্থিরতার মাত্রা ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য তিনবার 1.1527-1.1531 এরিয়া অতিক্রম করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই সঠিক দিকে কেবল 10-15 পিপসই মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। তাই শুক্রবার মুনাফা করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী কারেকশন অব্যাহত রয়েছে, তবে যেকোনো সময় 2026 সালে পরিলক্ষিত নিম্নমুখী প্রবণতা নতুন করে শুরু হতে পারে। ২০২৬ সালের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ায় আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ইউরোর দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি এখনও বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে; যাইহোক বর্তমানে মার্কেটের ট্রেডাররা মূলত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করছে। এটিই এই পেয়ারের মূল্যের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু করতে বাধা সৃষ্টি করছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1455-1.1474 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করে মূল্যের 1.1584-1.1591-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, এবং 1.1899-1.1908। সোমবারের তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন অন্যতম—মার্চে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি সূচকের হার 2.6%-এ পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের ফলাফল সম্ভবত ট্রেডারদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে না এবং ইউরো বিশেষ কোনো সহায়তা নাও পেতে পারে; তবে জার্মানির মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে ইসিবির আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সময় আরও ঘনিয়ে আসবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।