empty
 
 
08.04.2026 10:19 AM
জ্বালানি তেলের মূল্যে ধস নেমেছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তির পর তেলের মূল্য তীব্র কমে ব্যারেল প্রতি $100-এর নিচে নেমে গেছে। কূটনৈতিক আলোচনার ফলস্বরূপ এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করা। বিনিময়ে, তেহরান হরমুজ প্রণালী আবার খোলার ঘোষণা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

This image is no longer relevant

এই চুক্তির প্রভাব দ্রুত পরিলক্ষিত হয়। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স তীব্রভাবে দরপতনের শিকার হয়ে প্রায় 16% পর্যন্ত হ্রাস পায় এবং ব্যারেল প্রতি প্রায় $93-এ নেমে যায়। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দরও উল্লেখযোগ্য হ্রাস পায়, ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের শিকার হয় এবং ব্যারেল প্রতি প্রায় $95-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। পূর্বে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তেলের দর তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এউ চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য করে জোর দিয়ে বলেছেন যে যুদ্ধবিরতির সফলতা সরাসরি হরমুজ প্রণালীতে তেলের পরিবহনের স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেছেন যে এই শর্তেই সম্পূর্ণ চুক্তির চূড়ান্তকরণ এবং বাস্তবায়নের জন্য মূল ভিত্তি। এই বক্তব্য তেলের নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং এই সাফল্যের আগে গোপনীয়ভাবে পরিচালিত জটিল প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

তেলের দরপতন রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক দুই ধরনের অর্থনীতিকেই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তেলের দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতির হার মন্থর হতে পারে, কিন্তু তা তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর আয়ের উপর চাপ সৃষ্টি পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, "ইরান পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে।" ইসরায়েলও এই সামরিক অভিযান স্থগিত করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের এই শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠকে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যাতে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হওয়া যায়।

তবে বহু অর্থনীতিবিদের মতামত অনুযায়ী, তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি $80-এর নিচে নামানোর সত্যিকার অর্থে কোনো বিরাট ঘটনা ঘটতে হবে। এটি স্পষ্ট যে এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো ধরনের ব্যর্থতা দেখে গেলে তেলের দাম দ্রুত আবারও $100-এর উপরে উঠে যেতে পারে।


This image is no longer relevant

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনার পরও ভৌত চালান নিয়ে কাজ করা ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট সংকেত না পাওয়ার আগ পর্যন্ত পারস্য উপসাগর থেকে তেলের চালান গ্রহণের চিন্তা করছে না। অন্যদিকে জাহাজ মালিকেরা বলেছে তারা তেলের ট্যাঙ্কার পাঠানোর আগে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর আক্রমণের করায় বর্তমানে 800-এর অধিক জাহাজ এই প্রণালীতে আটকে আছে।

তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $100.40 অতিক্রম করাতে হবে। এটি অতিক্রম করলে তেলের মূল্যের $106.83-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। সর্বাধিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.36 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $92.54-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর জন্য গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $86.67-এর দিকে নেমে যেতে পারে, সম্ভাব্যভাবে $81.38 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.