আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের তুলনামূলকভাবে দুর্বল উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, এবং দিনের দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মার্চের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার কিছুক্ষণ পর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হয়। প্রাথমিকভাবে বলা যায়—এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো শনিবার ও রবিবারে ঘটেছে।ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার ব্যর্থতার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পর্কিত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একমত না হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যেতে পারে। রাত্রি শেষে আরও সংবাদ আসে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানি জাহাজগুলোকে অবরোধ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যাতে চীন, এশিয়া ও অন্যান্য দেশে ইরানি তেল রপ্তানি করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সোমবার সকালে সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে, উল্টোটা নয়। ফলে মার্কিন ডলারের দর তৎক্ষণাৎ ৮০ পিপস বৃদ্ধি পায়।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। শুধুমাত্র সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ায় নেমে আসায় একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও কিছুটা মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবে এই সপ্তাহে আবারও এই পেয়ারের দরপতন হতে পারে। মার্কেটের ট্রেডাররা এখনও কেবল মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ঘটনাবলী ও আবেগের ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করছে। তাই মার্কেটের এই "রোলারকোস্টার" রাইড দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকতে পারে, এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক, টেকনিক্যাল ও মৌলিক কারণগুলোর গুরুত্ব সীমিত হয়ে পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আবারও মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1591 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার কাছ থেকে নতুন করে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, এবং 1.1899-1.1908। সোমবার ইউরোজোনে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না, আর যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র বিদ্যমান আবাসন বিক্রয় সম্পর্কিত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রকাশিত হবে। তাই মার্কেটের ট্রেডাররা আবারও সম্পূর্ণভাবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওপর মনোযোগ দেবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।