empty
23.06.2026 06:15 AM
২৩ জুন কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবারের ট্রেডিংয়ে আবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এবার কী কারণে ইউরোর দরপতন ঘটল? প্রথমত, লক্ষ্যণীয় যে ইউরোর তীব্র দরপতন ঘটেছিল এবং পুরো দিনজুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের উচ্চমাত্রার অস্থিরতা বজায় ছিল। তবে গত সপ্তাহে বেশ সংশয়জনক ও বিপরীতমুখী প্রবণতার কারণে যে উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেছিল, তারপর থেকে এখনও ইউরোর মূল্যের কোনো কারেকশন হয়নি। অর্থাৎ, সবকিছুর পরও মার্কেটে এই পেয়ার বিক্রয়ের প্রবণতা বজায় আছে।সোমবার জানা যায় যে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নতুন আলোচনার প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে এই আলোচনার ফলাফলকে নির্দিষ্টভাবে ইতিবাচক বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, কিছু ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করেছে এবং আগামীতে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও ইরান পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। সবকিছুই ইতিবাচক মনে হচ্ছিল, কিন্তু গতকালই ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়েছেন যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে। এছাড়া তেহরান রবিবার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিচ্ছে, কারণ ইসরায়েল লেবাননের উপর আক্রমণ বন্ধ না করায় যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী খোলা না বন্ধ—এই বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তাই সুইজারল্যান্ডে হওয়া আলোচনাকে নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন করে যুদ্ধের তুলনায় এই আলোচনা প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকই বলা যায়।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। সিগন্যালটি প্রায় বিকেল ৩টার সময় গঠিত হয়েছিল, কিন্তু মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 রেঞ্জ ব্রেক করে এবং প্রায় 20 পিপ্স নিম্নমুখী হয়, যা কোনো মুনাফা না হওয়ার চেয়ে ভালো ফলাফল।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ট্রেডারদের কাছে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে গেছে। তবু যেকোনো মুহূর্তে চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারে, যেহেতু ইসরায়েল ও লেবানন একে অপরের উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে—এবং ট্রেডাররা এখনও ইউরোর জন্য ইতিবাচক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে। তাই মার্কিন ডলার এখনও তুলনামূলকভাবে অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1413-এর নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1354-1.1363 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1413 থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1455-1.1474 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837। মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইউরোজোনে জুনের মাসের সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছি না, তবে এগুলোর ফলাফলের প্রভাবে দিনের প্রথমার্ধে মার্কেটে সামান্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.