empty
 
 
25.09.2026 11:17 AM
বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া কেবল মুখের কথায় আস্থা রাখতে রাখতে ট্রেডাররা এখন ক্লান্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন—যার আওতায় তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে—এমন খবরের জেরে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমেছে।

গত দুই দিনে 7%-এরও বেশি মূল্য বৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি $106-এর নিচে নেমে এসেছে, অন্যদিকে ডব্লিউটিআই গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর $93-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনুরূপ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশ দুটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা চালিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কেবল আলোচনার বাইরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

This image is no longer relevant

আজ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সাত দিন মেয়াদী একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে। সাত দিনের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার বিষয়টি এই উদ্যোগকে আগের দফার আলোচনাগুলো থেকে আলাদা করে তুলেছে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, কেন মার্কেটে সতর্ক আশাবাদের পরিবর্তে জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য দরপতনের মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর 70%-এরও বেশি বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপট থেকেই বোঝা যায় কেন উত্তেজনা প্রশমনের যেকোনো পদক্ষেপ ট্রেডাররা এতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না হলে ব্রেন্টের গ্রেডের তেলের দাম সম্ভবত $100–110-এর মধ্যেই বজায় থাকবে; তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মতো কোনো কার্যকর চুক্তি হলে এটির দর দ্রুত $100-এর নিচে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে, রপ্তানি বা পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন কোনো বিঘ্নতা ঘটলে জ্বালানি তেলের দর আবারও $120-এ পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

স্বল্পমেয়াদী প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার নিকট-মেয়াদী ফিউচারের দরে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও, সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে; কারণ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিকট-ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধই রয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে অনড়—অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের দৈনিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। একই সময়ে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে, এই নৌপথের বর্তমান অবস্থার কোনো পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।

আমার মতে, ইরানের সাত-দিনের প্রস্তাব এবং একই সময়ে ওই অঞ্চলে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি—এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে কূটনৈতিক ও সামরিক প্রক্রিয়াগুলো পর্যায়ক্রমিক নয়, বরং সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে; আর এ কারণেই প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ট্রেডাররা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আমি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম আবারও $110-এ পৌঁছে যেতে পারে; অন্যদিকে, প্রকৃতঅর্থেই ধাপে ধাপে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হলে তেলের দর দ্রুত কমে $100-এর নেমে আসতে পারে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $96-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $100-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $104 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $92-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $89 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $87 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.