আরও দেখুন
গতকালের যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সংবাদ প্রকাশের পর—যদিও তা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল—সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট, বিশেষ করে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন ঘটেছে এবং একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের দর শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে অনেকেই ধারণা করছে মার্চের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির তীব্র উত্থান দেখা যেতে পারে; সেই কারণে ফেব্রুয়ারির মুদ্রাস্ফীতির হার ইতোমধ্যেই মার্কিন অর্থনীতি ও ফেডের প্রতি সতর্ক সংকেত প্রেরণ করেছে।
সামগ্রিক এবং মূল ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) উভয়ই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে: সামগ্রিক সূচক আগের মাসের তুলনায় 0.3% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য বাদ দিলে বিবেচিত মূল সূচক 0.2% বেড়েছে। এ মাসে জ্বালানির মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক সূচকের তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাখা করা যায়। বার্ষিক ভিত্তিতে ভোক্তা মূল্য সূচক মূলত ২০২১ সালের বসন্তে জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধির পর থেকে সবচেয়ে মৃদু পর্যায়ের বৃদ্ধি প্রদর্শন করছে: সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য সূচক বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়ে 2.4%-এ পৌঁছেছে—গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি—অপরদিকে মূল ভোক্তা মূল্য সূচক 2.5%-এ রয়ে গেছে, যা 2021-এর পর সবচেয়ে কম।
এ পরিস্থিতি ফেডারেল রিজার্ভের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন করে ফেলছে। একদিকে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করলে (সুদের হার বাড়ালে) মূল্যস্ফীতি দমন করা যেতে পারে; তবে এতে ইতোমধ্যেই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে যেতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে নীতিমালা নমনীয় করা হলে মুদ্রাস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রকাশিত সূচকগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পূর্ববর্তী ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে; যে কারণে চলতি মাসে পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানির দ্রুত মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। এইসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফেব্রুয়ারির ভোক্তা মূল্য সূচকের কিছু উপাদান মূল সূচকের ক্ষেত্রে অন্তত মাসিক ভিত্তিতে 0.4% বৃদ্ধির হারের ইঙ্গিত দেয়—যা বার্ষিক ভিত্তিতে ফেডের 2%-এর লক্ষ্যমাত্রার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির বিষয়টি আশ্চর্যজনক নয়। বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা তেলের দরের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং সেজন্যই এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
EUR/USD‑এর বর্তমান টেকনিকাল চিত্র
বর্তমানে ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1555 লেভেলে পুনরুদ্ধার করতে হবে। শুধুমাত্র এরপরই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1585 লেভেলে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1615-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যেতে পারে, কিন্তু বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া তা করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তীতে 1.1645-এর দিকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। যদি এই ট্রেডিং ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্য প্রায় 1.1510-এ নেমে আসে, তাহলে আমি আশা করছি বড় ক্রেতারা সক্রিয় হবে। যদি তারা সক্রিয় না হয়, তাহলে 1.1470-এর লেভেলের রিটেস্টের জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1430 থেকে লং পজিশন ওপেন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
GBP/USD‑এর বর্তমান টেকনিকাল চিত্র
পাউন্ডের ক্ষেত্রে, ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3390-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। শুধুমাত্র এরপর এই পেয়ারের মূল্যের 1.3420-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়—যার ওপরে যাওয়া বেশ কঠিন হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তীতে 1.3450-এর দিকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে এই পেয়ারের মূল্য 1.3350 এরিয়ার উপর থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। যদি তাঁরা সফল হয়, তবে এই রেঞ্জ ব্রেক করে দরপতন হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য মারাত্মক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3315 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি 1.3285 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।