empty
 
 
30.03.2026 11:22 AM
জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র বৃদ্ধির সরাসরি ফলাফল হিসেবে তেলের মূল্য পুনরায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দর মাসিক ভিত্তিতে রেকর্ড বৃদ্ধি প্রদর্শনের পথে রয়েছে, যা 3.7% বেড়ে ব্যারেল প্রতি $116.75-এ পৌঁছে গেছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (WTI) দর $100 ছাড়িয়েছে।

This image is no longer relevant

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি মিলিশিয়ারা চলমান সংঘাতে যোগদান করেছে এবং অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত মার্কিন স্থলসেনার আগমন মার্কেটে গভীর উদ্বেগ জন্ম দিয়েছে। ট্রেডাররা শঙ্কা প্রকাশ করছে যে চলমান সামরিক সংঘাতের বিস্তার জ্বালানি খাঁতে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে প্রতিষ্ঠিত পরিবহন কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে এবং সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে।
এই ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই কালো সোনাখ্যাত জ্বালানি তেলের মূল্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোর থেকে তেলের সরবরাহ অনিশ্চয়তা বেড়ে গেলে ঐতিহ্যগতভাবে তেলের দাম বাড়ে। স্থায়ী সরবরাহ বিঘ্নতার শঙ্কা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রেডাররা পুনরায় সক্রিয়ভাবে তেল ক্রয় করছে।
তেলের মূল্যের ভবিষ্যৎ গতিশীলতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্ত পক্ষগুলোর কাছ থেকে যেকোনো নতুন বিবৃতি বা পদক্ষেপ, পাশাপাশি সেনা মোতায়েন, তেলের মূল্যের আরও বড় ওঠানামার কারণ হতে পারে।
যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে; এর জবাবে ইরান এক মিলিয়নেরও বেশি লোক মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ স্থল আক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। রোববার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি ইরানের তেলক্ষেত্রগুলো দখল করতে চান এবং খার্গ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন, যা তেহরানের পক্ষ পাল্টা তীব্র প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ উস্কে দিতে পারে। এই মাসের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ওই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

সামরিক সংঘাত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকায় এর শিথিলতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন যে ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত 15টির অধিকাংশ দাবি পূরণ করা হয়েছে, তবে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইরান পূর্বে প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনা খারিজ করে দিয়েছে এবং উত্তর হিসেবে নিজেদের শর্ত উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

This image is no longer relevant

তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের প্রথমে তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করা দরকার। এতে করে তারা মূল্যকে $106.86-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে প্রায় $113.36-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। যদি তেলের মূল্য কমে যায়, তাহলে মূল্য $92.54-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেবার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে ঐ রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের দর দ্রুত $86.67-এ নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে প্রায় $81.38 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.