আরও দেখুন
17.06.2026 10:53 AMনিচে সমঝোতা স্মারকটির মূল বিষয়বস্তু এবং সারমর্ম নিচে দেওয়া হলো:
অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা হবে — লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই আর একে অপরকে আক্রমণ করবে না। ইসরায়েল যে এতে সম্মত হবে, সেই সম্ভাবনা খুবই কম।
৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে — ইরান জাহাজ চলাচলের যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিমাণ পুনরুদ্ধার, প্রণালীটি মাইনমুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত বাধা অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। স্বাক্ষরের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।
ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থিতাবস্থায় স্থগিত রাখছে — আলোচনা চলাকালীন সময়ে নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা হবে না। ইতোমধ্যে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের ভাগ্য চূড়ান্ত চুক্তিতে নির্ধারিত হবে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের তেল রপ্তানির অনুমোদন দেবে — তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলোর (ব্যাংক, বীমা, পরিবহন) ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের আগেই স্থগিত করা হবে।
জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা হবে — যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র জারি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য তহবিল সরবরাহ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ — ৬০ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি কার্যপ্রণালী তৈরি করা হবে।
একটি সর্বসম্মত সময়সূচী অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে — যার মধ্যে জাতিসংঘ ও আইএইএ-এর প্রস্তাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সকল একতরফা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি পরিপালন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। চূড়ান্ত দলিলটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা প্রয়োজন, যা ট্রেডাররা বিশেষ ও নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করবে। ৩০০ বিলিয়ন ডলার একটি বিশাল অঙ্ক, যা ইরানের বার্ষিক জিডিপির সমতুল্য, এবং এর বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, যা একটি গুরুতর রাজনৈতিক বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও জটিল: এটি বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি প্রয়োজন, যেখানে রাশিয়া ও চীনের ভেটো দেয়াড় ক্ষমতা রয়েছে। পরিশেষে, দলিলে পারমাণবিক কর্মসূচীর বিষয়টি অস্পষ্টভাবে প্রণীত হয়েছে—"স্থিতাবস্থা" বলতে সেন্ট্রিফিউজ ভেঙে ফেলা বা ইউরেনিয়াম পরিবহনকে বোঝায় না, যা ইতোমধ্যেই ইসরায়েল এবং আমেরিকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ট্রেডারদের জন্য, এই দলিলটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সংকেত। জ্বালানি তেলের দর ইতোমধ্যে ৮৩ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, এবং যদি কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছাড়াই এই সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের মূল্যের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ৭৫-৭৮ ডলার নির্ধারণ করা যেতে পারে। জ্বালানি তেলের মূল্য কমে গেলে তা ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
You have already liked this post today
*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।
