আরও দেখুন
সোমবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানিতে শিল্পোৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় ও চূড়ান্ত প্রাক্কলন প্রকাশিত হবে করবে। শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকলেও, এই খাতটি গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে মাসিক ভিত্তিতে জিডিপি 0.4% এবং বার্ষিক ভিত্তিতে 1.0% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করতে পারে, যা খুব একটা উল্লেখযোগ্য অর্জন নয়। তাই, এই প্রতিবেদনগুলোর প্রতি মার্কেটে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য হতে পারে এবং এর মাধ্যমে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সোমবার উল্লেখযোগ্যকোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে মার্কেটে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই সপ্তাহে মুদ্রানীতি কমিটির অন্তত দুইজন সদস্য বলেছেন যে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং তখন হয়তো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পরিস্থিতি বেশ পরস্পরবিরোধী ও অনিশ্চিত। আমাদের ধারণা, মূল সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। এদিকে জানা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইরানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্বাভাবিক মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584–1.1594 এবং পাউন্ড 1.3456–1.3476 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, কারেকশনের অংশ হিসেবে ইউরো ও পাউন্ডের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈঠকের সময় ঘনিয়ে আসছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ আর্থিক নীতিমালা কঠোর করবে কি না—তা নিয়ে মার্কেটে সংশয় বাড়ছে। বর্তমানে এই বিষয়টিই মার্কিন ডলারকে সহায়তা করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।